পঞ্চাশ ষাট সত্তরের দশকে বুদ্ধিজীবী ও সাহিত্যিকদের মধ্যে আহমদ ছফা কেন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠলেন?
১. সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী ও বদরুদ্দীন উমর গুরুত্বপূর্ণ ছিলেন। তাদের চিন্তা ও তৎপরতা আছে। কিন্তু, কলকাতার রুচির হীনম্মন্যতা ও মার্কসীয় বিশ্ববীক্ষা তাদের দৃষ্টিকে সীমাবদ্ধ করে দিয়েছে। কলকাতা থেকে আসা বাঙ্গালী মোহাজিরদের মতো তারা ঢাকা ও বাংলাদেশকে নিজের করে নিতে পারেননি।
২. মার্কসীয় দর্শনের প্রভাব বলয়ে যারাই চিন্তা চর্চা করেছেন তারা স্বাধীন চিন্তা করতে পারেননি। শেষ পর্যন্ত এসব চিন্তা ইতিহাসের ফুটনোটে স্থান পেয়েছে।
৩. আখতারুজ্জামান ইলিয়াস তার গল্পে কিছুটা স্বাধীন থাকলেও চিলেকোঠার সেপাইতে বেশি মাত্রায় মার্কসীয় দর্শন দিয়ে মোটিভেটেড। খোয়াবনামা সাবঅলটার্ন স্টাডিজ দিয়ে মোটিভেটেড।
৪. হুমায়ূন আজাদ সারাজীবন পশ্চিমা আধুনিকতা সম্প্রচার করে গেছেন।
৫. ফরহাদ মজহার বিপ্লব ও জিহাদের আইডিয়া দিয়ে মোটিভেটেড। বহুকাল পাশ্চাত্যের দর্শন সম্প্রচার করেছেন। তবু মোকাবেলা ও ভাবান্দোলন তার বড় কাজ।
৬. আহমদ ছফা সবার চেয়ে বড় একটিভিস্ট ছিলেন। কিন্তু তার কাছে মতাদর্শের চাইতে কজ সবচাইতে বড় ছিল।
৭. মেইনস্ট্রিমের ফ্যাসিস্ট মতাদর্শের বিরুদ্ধে লড়াই কখনো থামাননি। প্রগতিশীল, নারীবাদী, মার্কসবাদী, একাডেমিক ও পলিটিকালি কারেক্ট থাকার চেষ্টা তার মধ্যে দেখা যায়নি। তিনি কখনো কলকাতার দারস্থ হননি।
৮. স্বাধীন বুদ্ধিজীবী হিসেবে তার বিরামহীন অবস্থান সত্যিই বিস্ময়কর। নিজের চিন্তা করেছেন। অকপটে প্রকাশ করেছেন।
৯. বুদ্ধিবৃত্তির নতুন বিন্যাস চিন্তার স্বাধীনতার নতুন ইশতেহার।
১০. বাঙালী মুসলমানের মন চিন্তার আকর। শতবর্ষের ফেরারি রীতিমতো একটা মহাদেশ আবিষ্কার।
১১. তার উপন্যাসগুলো সবসময় প্রাসঙ্গিক। সমকালীন সমাজের এমন লিপ্ত বর্ণনা সাহিত্যে বিরল।
১২. তিনি বুদ্ধিবৃত্তির একটা ধারা তৈরি করতে পেরেছেন। সৃষ্টিশীল ও কবির ব্যক্তিত্ব দিয়ে তরুণদের আকৃষ্ট করতে পেরেছেন। স্বাধীন বুদ্ধিজীবী হিসেবে দাপুটে আহমদ ছফার মতো প্রভাব আর কারো হবে না সেটাই তো স্বাভাবিক।
ফেসবুক থেকে সংগৃহীত।

No comments:
Post a Comment